মাত্র ৫ ফুট চওড়া। লম্বায় প্রায় ৮৫ ফুট। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, এত সরু জায়গায় আবার বসতঘর হয় নাকি! কিন্তু বাস্তবে এই অল্প জায়গার মধ্যেই গড়ে উঠেছে একটি পরিবারের বসবাসের ঠিকানা। আর ব্যতিক্রমী এই ঘরটি দেখতে এখন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন মানুষ।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার স্বল্পপেন্নাই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মো. শাহজালালের এই বসতঘর এখন স্থানীয়দের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রায় এক শতাংশ জায়গার ওপর নির্মিত ঘরটির প্রস্থ মাত্র ৫ ফুট। অথচ এর ভেতরেই রয়েছে রান্নার জায়গা, শোবার ঘর, আলমারি রাখার ব্যবস্থা, পানির মোটর ও শৌচাগার। পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও যথাসম্ভব গুছিয়ে রাখা হয়েছে ছোট্ট এই ঘরে।
তবে এই ঘর তৈরির পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কষ্ট আর সংগ্রামের গল্প।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল একসময় দেশে মাইক্রোবাস চালাতেন। পরে জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত। প্রবাসে থেকে পরিবারের খরচ চালানোর পাশাপাশি নিজের একটি ঘরের স্বপ্নও দেখতেন তিনি।
শাহজালালের স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানান, স্বামী বিদেশে থাকলেও পরিবারকে নিয়ে স্থায়ীভাবে থাকার মতো ভালো একটি জায়গা ছিল না। কখনো আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার কখনো নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে তাঁদের। শেষ পর্যন্ত স্বামীর পাঠানো অর্থে অল্প জায়গার মধ্যেই ঘরটি নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জায়গাটি আগে নিচু ছিল। পরে মাটি ভরাট করে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। জায়গা কম হলেও পরিবারের থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মাথায় রেখে ঘরটি সাজানো হয়েছে।
ঘরটির ভেতরে ঢুকলেই প্রথমে রান্নার জায়গা। এরপর খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার ব্যবস্থা। রয়েছে শোবার জায়গাও। পরিবারের সদস্যদের ঘুমানোর জন্য একটি ছোট চৌকি রয়েছে। জায়গার সংকট থাকায় চৌকির পাশেও বুদ্ধি করে অতিরিক্ত শোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঘরের সামনের ও পেছনের সামান্য জায়গাটুকুও চলাচল ও প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘরের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। এরপর থেকেই অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ঘরটি দেখতে।
দর্শনার্থীদের কেউ অবাক হয়ে দেখছেন ঘরের গঠন, কেউ আবার ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। তাঁদের কৌতূহল একটাই, মাত্র ৫ ফুট চওড়া জায়গার মধ্যে কীভাবে একটি পরিবার এত সুন্দরভাবে বসবাস করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঘরটি হয়তো আকারে ছোট, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, স্বপ্ন আর নিজের একটি ঠিকানা পাওয়ার গল্প।
শাহজালালের এই ৫ ফুট চওড়া ঘর তাই এখন শুধু একটি বসতবাড়ি নয়, বরং স্বল্প জায়গায় স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ।