সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি ও নাগরিক দায়িত্ববোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দীন নিজান। তিনি বলেছেন, “আমরা ওসি, ইউএনওদের কাছ থেকে ভালো সেবা চাই, রাজনীতিবিদদের কাছ থেকেও সেবা চাই। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, তা আমরা অনেকেই পালন করি না।”
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ আশরাফ উদ্দীন নিজান বলেন, সমাজের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির পেছনে কেবল প্রশাসন বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের সূচনাটাই অনেক সময় অন্যায়ের মধ্য দিয়ে হয়—সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে আমাদের রাজনীতিবিদরাও দায় এড়াতে পারেন না। সবাই যদি শুধু নিজের লাভ-লোকসানের হিসাব করে, তাহলে রাষ্ট্র কখনোই উন্নত হতে পারে না।”
তিনি বলেন, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অন্যায়ের প্রতিবাদে সবাইকে সাহসী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা অনেক সময় অন্যায়ের কথা মুখ ফুটে বলতেও পারি না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। অতীতের হারানো ঐতিহ্য ও নৈতিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, “রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, রোগ যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাজেট বক্তব্যে ন্যাশনাল হেলথ সেন্টার চালুর কথা বলেছেন। তাই রোগ প্রতিরোধে আগাম সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরির বিকল্প নেই।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শেখ এহসান উদ্দীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজ উদ্দিন।
এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ, সাম্য, ন্যায়বিচার ও প্রতিবাদী আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে রাষ্ট্র, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।