সাংবাদিক মোঃ শাহরিয়া নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি সংক্ষিপ্ত অথচ হৃদয়ছোঁয়া স্ট্যাটাস প্রকাশ করেছেন। অল্প কথার সেই লেখাটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই এটিকে হারিয়ে যাওয়া মানুষ, ভাঙা সম্পর্ক, নীরব কষ্ট এবং আবারও নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার সাহসের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন,
ঘর ভাঙা ঝড় কখনো নীড়হারা বাবুইয়ের খোঁজ নিতে আসে না। কিন্তু সেই জানে, এক ঝড় সামাল দিতে কয় ক্রোশ খড়কুটো বয়ে হয়।
মাত্র দুটি বাক্য। অথচ এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য মানুষের না বলা গল্প। জীবনে কিছু মানুষ হঠাৎ করেই চলে যায়। কেউ ইচ্ছায়, কেউ সময়ের প্রয়োজনে, কেউ ভুল বোঝাবুঝির কারণে। তারা হয়তো নতুন জীবনে ভালো থাকে। নতুন স্বপ্নে নিজেকে ব্যস্ত রাখে। কিন্তু পেছনে ফেলে যাওয়া মানুষটির ভাঙা স্বপ্ন, নিঃশব্দ কান্না আর প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার যুদ্ধ খুব কম মানুষই দেখতে পায়।
ঝড় যেমন ফিরে এসে ভাঙা নীড়ের খোঁজ নেয় না, তেমনি চলে যাওয়া অনেক মানুষও আর ফিরে তাকায় না। কিন্তু যে মানুষটি ভেঙে পড়েও নিজের জীবনটাকে আবার গুছিয়ে নিতে চায়, সে জানে প্রতিটি ইট, প্রতিটি খড়কুটো, প্রতিটি হাসির আড়ালে কতটা ব্যথা লুকিয়ে থাকে।
বাবুই পাখির নীড় এখানে শুধু একটি বাসা নয়। এটি ভালোবাসা, বিশ্বাস, সম্পর্ক এবং স্বপ্নের প্রতীক। একটি নীড় ভাঙতে কয়েক মুহূর্ত লাগে। কিন্তু সেটি আবার গড়ে তুলতে লাগে অগণিত সময়, ধৈর্য এবং নিজের ভেতরের ভাঙাচোরা অংশগুলোকে বারবার জোড়া লাগানোর শক্তি।
স্ট্যাটাসটি পড়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, যে মানুষ চলে গেছে, সে ভালো থাকুক। কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো কারও অমঙ্গল চায় না। তবে যারা থেকে যায়, তাদের লড়াইটাও যেন মানুষ ভুলে না যায়। কারণ সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধটি হয় নীরবে, নিজের সঙ্গে নিজের।
সাংবাদিক মোঃ শাহরিয়ার এই সংক্ষিপ্ত বার্তা মনে করিয়ে দেয়, চলে যাওয়া মানুষদের থামিয়ে রাখা যায় না। তাদের জন্য দোয়া করা যায়, তাদের ভালো থাকা কামনা করা যায়। কিন্তু নিজের ভাঙা জীবনটাকে আবার দাঁড় করিয়ে তোলার দায়িত্ব নিজেরই। আর সেই নীরব সংগ্রামই একদিন একজন মানুষকে আগের চেয়ে আরও শক্ত, আরও পরিণত এবং আরও দৃঢ় করে তোলে।