কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় একটি বিবাহের কাবিননামা নিয়ে তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত দেনমোহর পরিবর্তন, বিবাহের তারিখ ভিন্নভাবে উল্লেখ এবং তথ্য গোপন করে কাবিননামা নিবন্ধনের অভিযোগ এনে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক প্রবাসফেরত যুবক।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে তিতাস উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. শরীফুল ইসলামের কাছে অভিযোগটি দাখিল করেন উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের মঙ্গলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সাঈদ মোল্লা (২৯)।
অভিযোগে উপজেলার ওপরপুর গ্রামের (বর্তমানে মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দা) কথিত কাজী মো. ইয়াকুব আলী, মঙ্গলকান্দি গ্রামের আবু বকর, নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. শফিউল্লাহসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে সাঈদ মোল্লা দাবি করেন, ২০২৩ সালের ২০ জুলাই দুই পরিবারের সম্মতিতে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ওই সময় কনের দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ টাকা এবং উসুল দেখানো হয়েছিল ২ হাজার টাকা। এছাড়া বিয়ের সময় কনেকে প্রায় চার ভরি স্বর্ণালঙ্কারও প্রদান করা হয়।
তিনি আরও জানান, বিয়ের কয়েক মাস পর জীবিকার প্রয়োজনে কম্বোডিয়ায় চলে যান। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে, যার বর্তমান বয়স প্রায় ২৩ মাস। বিদেশে থাকা অবস্থায় স্ত্রীকে নিজের কাছে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কাবিননামা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে শ্বশুরের কাছে অনুরোধ করলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে বিষয়টি সামাজিক সালিশ এবং আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নথিতে সংযুক্ত কাবিননামার অনুলিপি দেখে তিনি বিস্মিত হন। সেখানে দেনমোহর ১২ লাখ টাকা, উসুল ২০ হাজার টাকা এবং বিবাহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
সাঈদ মোল্লার ভাষ্য, ২০২৩ সালের শেষ দিকে তিনি বিদেশে যান এবং দীর্ঘ সময় দেশে ছিলেন না। সে অবস্থায় ২০২৫ সালে নতুন করে বিয়ের কাবিনে তার স্বাক্ষর থাকার প্রশ্নই ওঠে না। পাশাপাশি সন্তানের বয়সও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে তিনি দাবি করেন।
বিয়ের ঘটক অমলা খাতুন বলেন, উভয় পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে হয়েছিল এবং দুই লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, পরবর্তীতে লোভের বশবর্তী হয়ে কনের পরিবার ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।
বিয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা রিপন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগে নাম থাকা আবু বকর অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "কাবিনে কোনো জালিয়াতি হয়নি। বিষয়টি সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।"
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কাজী ইয়াকুব আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে আর তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তিতাস উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. শরীফুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লিখিত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নির্ধারিত দায়িত্ব এলাকার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন গ্রামে বিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। তারা পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য উদঘাটন এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।