মা শুধু একটি শব্দ নয়। তিনি সন্তানের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং জীবনের প্রতিটি পথচলার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। একজন সন্তানের হাসি, স্বপ্ন ও সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান থাকে মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও অক্লান্ত পরিশ্রমের। সেই চিরন্তন সত্যকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে মা দিবস উপলক্ষে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ২নং উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২নং উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষিকাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলেকজান মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একজন মায়ের স্নেহ, মমতা ও আত্মত্যাগের ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়। একজন সন্তানের চরিত্র গঠন, নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি হয় মায়ের হাত ধরেই। একটি আদর্শ পরিবার, একটি সচেতন সমাজ এবং একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের পেছনেও একজন আদর্শ মায়ের ভূমিকা অপরিসীম।
অনুষ্ঠানের সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলেন মা। একজন সন্তানের নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা এবং জীবনের প্রথম শিক্ষা শুরু হয় মায়ের কাছ থেকেই। তাই মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ প্রতিটি সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব।"
তিনি আরও বলেন, "একজন মা যেমন একটি সন্তানকে লালন করে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন, তেমনি একটি গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করে। তাই মায়ের প্রতি সম্মান এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ, এই দুটি মূল্যবোধ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত।"
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপস্থিত অভিভাবকদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজ বাংলাদেশ গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়ার প্রত্যয়ে নেওয়া এই উদ্যোগকে উপস্থিত সবাই আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠিতে অংশগ্রহণকারী অভিভাবক, শিক্ষক ও অতিথিরা মা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সন্তানকে মানবিক, নৈতিক, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই। একজন মায়ের সুশিক্ষা ও স্নেহই একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।
মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বার্তার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার সামাজিক দায়বদ্ধতার আহ্বান ছড়িয়ে দিয়ে আন্তরিক, আবেগঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।প্রয়োজনে এটিকে আরও মূলধারার জাতীয় পত্রিকার ভাষাশৈলীতে সম্পাদনা করা যেতে পারে।