কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মালিগাঁও ইউনিয়নের কালাসোনা গ্রামের রুমি (৩৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ করা হলেও, শ্বশুরবাড়ির দাবি তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রুমি মালিগাঁও ইউনিয়নের কালাসোনা গ্রামের মৃত আলমাছ মিয়ার মেয়ে। তাঁর মায়ের নাম নাছিমা বেগম। প্রায় আট বছর আগে বারোপাড়া ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের মো. লিটন মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর তাঁদের বিয়ে হয়। লিটন মিয়া মোতালেব দেওয়ানের ছেলে। তাঁদের সংসারে জায়ান নামে চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে বারোপাড়া ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের মো.মোতালেব দেওয়ানের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত লিটনের মা নার্গিস আক্তার দাবি করেন, তিনি সকালে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। পরে খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখেন পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ভিড় এবং তাঁর পুত্রবধূর মরদেহ ঘরের ভেতরে পড়ে রয়েছে। কেন এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর পুত্রবধূর কয়েকজনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তাঁর ছেলে জানার পরও প্রেমের সম্পর্কের কারণে রুমিকে বিয়ে করেছিলেন।
জানা যায়, মো. লিটন সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন তিন মাস আগে তিনি সৌদি আরব থেকে ছুটিতে আসেন।
অন্যদিকে, নিহতের বোন কুহিনূর অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর বোনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
নিহতের মা নাছিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রুমি আমার একমাত্র আদরের মেয়ে। এভাবে মেয়ের মরদেহ দেখতে হবে কখনো কল্পনাও করিনি। আমার মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। এখন আমার এতিম নাতিকে কে দেখবে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রুমির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ছিল। তবে কী কারণে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারছেন না। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন হবে বলে তারা মনে করেন।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দাউদকান্দি চান্দিনা সার্কেলের পুলিশ সুপার খলিলুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।