মোঃ শাহজাহান বাশার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গত ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শান-ই আহলুল বায়ত (আ.) ও শান-ই কারবালা’ শীর্ষক এক সেমিনার। এতে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আহলুল বায়ত (আ.)-এর মর্যাদা, কারবালার শিক্ষা, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, মানবতা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও মুখ্য আলোচক ছিলেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের পীর, পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সুফিজের প্রেসিডেন্ট শাহসূফী ড. সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমেদ আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (ম.জি.আ.)।
সেমিনারের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন কারী শাইখ সাইয়্যিদ মুস্তানজিদ বিল্লাহ রাব্বানী। পরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শানে নাতে রাসুল পরিবেশন করেন শাফি গারাভি।
স্বাগত বক্তব্যে শায়খ আজমাইন আসরার মাইজভাণ্ডারী বলেন, আহলুল বায়ত (আ.)-এর আদর্শ ও কারবালার শিক্ষা বিশ্বব্যাপী শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
‘শান-ই আহলুল বায়ত (আ.)’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আল্লামা আনোয়ার আল-কাদরী। তিনি কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে আহলুল বায়ত (আ.)-এর মর্যাদা, তাঁদের প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব এবং মুসলিম উম্মাহর ওপর তাঁদের অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করেন।
‘শান-ই কারবালা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন আল্লামা সাইয়্যিদ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রাব্বানী (বদরপুর, এমজেএ), ইমাম ও খতিব, আহলুল বায়ত মসজিদ। তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগ, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবিস্মরণীয় ভূমিকা এবং বর্তমান প্রজন্মের জন্য কারবালার শিক্ষার তাৎপর্য তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক গবেষক, স্পিরিচুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার এবং মইনীয়া ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি সাইয়্যিদ মাশুক মইনুদ্দীন আল-হাসানী আল-মাইজভাণ্ডারী ইংরেজিতে বক্তব্য দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে ইসলামের শান্তি, ভালোবাসা, সহনশীলতা ও আহলুল বায়ত (আ.)-এর আদর্শ তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেবিবিএ (JBBA) নিউইয়র্কের সভাপতি গিয়াস আহমেদ। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি এবং ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এ ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন।
সমাপনী বক্তব্যে ড. সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমেদ আল-হাসানী আল-মাইজভাণ্ডারী বলেন, “আহলুল বায়ত (আ.)-এর ভালোবাসা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারবালার শিক্ষা কেবল ইতিহাস নয়, এটি মানবতার জন্য চিরন্তন প্রেরণা। ইমাম হুসাইন (আ.) সত্য, ন্যায়, ইনসাফ ও শান্তির পথে অবিচল থাকার যে আদর্শ রেখে গেছেন, তা আজও সমগ্র বিশ্বের জন্য অনুসরণীয়।”
তিনি আরও বলেন, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
সেমিনারে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আলেম-উলামা, গবেষক, সমাজসেবী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অতিথিরা অংশ নেন। বক্তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে বিশ্বশান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং মানবকল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন ড. শাহসূফী সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমেদ আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (ম.জি.আ.)।