এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের পুরোনো ও জনপ্রিয় খাবার পান্তা ভাত আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশেও অনেক এলাকায় এটি সকালে নাশতা হিসেবে খাওয়া হয়। সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী খাবারটি ফের জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, পান্তা ভাত শুধু একটি সাধারণ খাবার নয়, বরং এটি শরীরের জন্য বহুমুখী উপকার বয়ে আনে। বিশেষ করে গরমের সময়ে এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
পান্তা ভাত তৈরির সময় ভাত পানিতে ভিজে থাকার কারণে ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়া ঘটে। এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। নিয়মিত খেলে হজমশক্তি বাড়ে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
এই খাবারে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। ফলে শরীর সহজে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
পান্তা ভাত শরীরে প্রাকৃতিকভাবে ইলেক্ট্রোলাইটের মতো কাজ করে। গরমে অতিরিক্ত ঘাম ও পানিশূন্যতার কারণে যে ক্লান্তি আসে, তা দূর করতে এটি কার্যকর।
ফারমেন্টেশনের ফলে ভাতে থাকা ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদানের পরিমাণ ও শোষণক্ষমতা বাড়ে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এ প্রক্রিয়ায় আয়রনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
ভিটামিন বি১২ এর সম্ভাব্য উৎস,পান্তা ভাতে ভিটামিন বি১২ তৈরি হতে পারে, যা শরীরের শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন উপাদান ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সহায়তা করে।
পান্তা ভাত তৈরি করা খুবই সহজ। আগের দিনের রান্না করা ভাত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তা ফারমেন্টেড হয়। পরদিন ভাতে হালকা টক গন্ধ ও নরম ভাব আসে। এরপর লবণ, কাঁচামরিচ বা শুকনো মরিচ ভাজা, পেঁয়াজ এবং সরিষার তেল মিশিয়ে খাওয়া যায়।
খাবারের বৈচিত্র্য বাড়াতে ভর্তা, ভাজি বা মাছ ভাজা যোগ করা হয়। এতে পান্তা ভাত আরও সুষম ও পুষ্টিকর হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পান্তা ভাত একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য হলেও যাদের পেটের সংবেদনশীলতা বেশি বা বিশেষ কোনো রোগ রয়েছে, তাদের নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর এই ঐতিহ্যবাহী খাবারটি হজমশক্তি উন্নত করে, শরীর ঠান্ডা রাখে এবং শক্তি জোগায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পান্তা ভাত রাখতে উৎসাহ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।