আজকের কুমিল্লা মিডিয়া ২৪ সংবাদ
Cumilla Media 24
প্রকাশ : Sep ২, ২০২৬ইং অনলাইন সংস্করণ

সিএনজি চালক থেকে কোটিপতি ‘খোকন’: সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক ও অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক 
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বারেশ্বর গ্রামের খোকন মিয়াকে ঘিরে মাদক ব্যবসা, সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ বাণিজ্য এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—একসময় সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা খোকন কীভাবে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন? তার সম্পদের উৎস ও কথিত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও সন্দেহ।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, খোকন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বুড়িচং এলাকার বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তপথে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়ার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে মাছ ও তেলসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে পাচারের সঙ্গেও তিনি জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে।
খোকন মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া কুমিল্লার বুড়িচং অথবা কোতোয়ালি থানায়ও মাদকসংক্রান্ত মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব মামলার নম্বর, তারিখ ও বর্তমান আইনগত অবস্থান সংশ্লিষ্ট থানার নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে মামলা থাকার পরও খোকন কীভাবে আবার কথিত মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রশাসনের কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সিএনজি চালক থেকে বিপুল সম্পদের মালিক—উৎস কোথায়?
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একসময় সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন খোকন। কিন্তু বর্তমানে তার জীবনযাপন ও সম্পদে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বলে তারা দাবি করছেন। বাড়ি, গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের মালিকানা কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং এসব সম্পদের বৈধ উৎস কী—তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর খোকনের কর্মকাণ্ড ও প্রভাবেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এলাকায় তিনি বর্তমানে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
 তরুণদের ব্যবহার করে মাদক ব্যবসার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, বারেশ্বর এলাকার কিছু তরুণকে ব্যবহার করে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবসা ও সরবরাহ পরিচালনা করা হচ্ছে। খোকনকে এ নেটওয়ার্কের অন্যতম সমন্বয়কারী ,
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কোনো সাংবাদিক তার কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নিলে তাকে ভয়ভীতি বা হুমকির মুখে পড়তে হয়। তবে এ অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
 প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ
খোকন মিয়াকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে—তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কিছু সদস্যকে নিয়মিত অর্থ দিয়ে কথিতভাবে ‘ম্যানেজ’ করে ব্যবসা পরিচালনা করেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বুড়িচং থানার কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত মো. আল আমিনের মাধ্যমে থানা ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী বিজিবির কিছু সদস্যকেও মাসিক মাসোয়ারা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য দলিল, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি, কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং সীমান্ত এলাকার নজরদারি তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করা জরুরি।
 সীমান্তপথে অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ
বুড়িচংয়ের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে খোকনকে ঘিরে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, সীমান্তের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়ার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি থাকার পরও যদি এসব কর্মকাণ্ড চলতে থাকে, তাহলে এর পেছনে কারা রয়েছে এবং কোনো প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা আছে কি না—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
 অভিযোগ অস্বীকার খোকনের
এসব অভিযোগের বিষয়ে খোকন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ ব্যবসা কিংবা প্রশাসনকে অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
বিষয়টি নিয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে খোকন মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর নথি, মামলার বর্তমান অবস্থা এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অভিযোগগুলো যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সেটিও এখন দেখার বিষয়।
অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। মামলার নথি, সম্পদের তথ্য, সীমান্ত এলাকার সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পরবর্তী প্রকাশনায় তুলে ধরা হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৯ কেজি গাঁজাসহ কসবায় মাদক কারবারি গ্রেফতার

1

‎গরমে স্বস্তি ও পুষ্টির উৎস, কেন আবার জনপ্রিয় হচ্ছে পান্তা ভ

2

ব্রাহ্মণপাড়ায় ‘মদিনার কাফেলা বাংলাদেশ’-এর উপজেলা কাউন্সিল অধ

3

ময়নামতি হাইওয়ে থানার এক কর্মরত এসআইয়ের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল আ

4

রিমান্ড শেষে জেলে হাফিজুর, তনু হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন তথ্য

5

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হলেন আবুল হাসেম চেয়ারম্য

6

সাইপ্রাস এস আলমের বিলাস বহুল গাড়ি ও সম্পত্তি জব্দ

7

আবুল হাশেম চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করলেন গৌরীপুর বা

8

সিএনজি চালক থেকে কোটিপতি ‘খোকন’: সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক ও অবৈ

9

দাউদকান্দি বিএনপির সম্মেলন ঘিরে গৌরীপুরে কাউন্সিলরদের সমর্থন

10

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

11

সরকারি নজরদারি আছে, বেসরকারি খাতে কেন নেই?

12

নিজেকে ‘অযোগ্য’ বললেন মাহফুজ, ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ

13

দ্বিতীয় বিয়ের পথে রিয়াদ, প্রথম স্ত্রীর কবরে দাঁড়িয়ে কান্নায়

14

তিতাসে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূ

15

কুমিল্লায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ১১১ সদস্যের পূর্

16

দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যু, ব্রাহ্মণপাড়ায় শ

17

কুমিল্লা শহরের প্রবেশপথে সড়কে অবৈধ পার্কিং ও নির্মাণসামগ্রী

18

স্বামীর সামনে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, চান্দিনায় গ্

19

বিয়ের পরদিনই মর্মান্তিক মৃত্যু, ট্রাকচাপায় নবদম্পতিসহ নিহত ৪

20