রিপোর্ট: রাজিব হোসেন জয়
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে কোথাও রোগী ও স্বজনদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়, আবার কেউ কেউ গরম থেকে স্বস্তি পেতে সঙ্গে রাখছেন চার্জার ফ্যান।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের অনেকেই গরমে অস্বস্তিতে রয়েছেন। কেউ হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন, আবার কেউ চার্জার ফ্যান ব্যবহার করছেন। কয়েকটি শয্যার পাশে ব্যক্তিগত ফ্যানও দেখা যায়।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে ভর্তি রোগীদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানান তারা।
চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন বলেন, অসুস্থ হয়ে মানুষ হাসপাতালে আসেন সুস্থ হওয়ার জন্য। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে রোগীদের আরও কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংকটের দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ চালু থাকে। এ সময়ে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্যাথলজি পরীক্ষা, এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রামের মতো সেবা দিতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় এসব সেবায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।
তিনি বলেন, এ সমস্যা নিয়ে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে কথা হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবস্থা করা হয়েছে। বুধবার এ সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় চলমান দুর্ভোগ কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা বজায় রাখা গেলে বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম মোটামুটি সচল রাখা সম্ভব হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, ভর্তি রোগীরাই গরমে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। হাসপাতালে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকলে এ দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো। সৌরবিদ্যুৎ কিংবা শক্তিশালী জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময়ও ভর্তি রোগীদের স্বস্তিতে রাখা সম্ভব হতো।
রোগী ও স্বজনরা দ্রুত সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।