মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াত ধারাবাহিকভাবে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়কমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি করে কোনো লাভ হবে না। জামায়াতের মিথ্যাচার দেশের মানুষ কখনো ক্ষমা করবে না।”
বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণে সরেজমিন পরিদর্শন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বলছে বিএনপি নাকি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না। অথচ বাস্তবতা হলো—এই জুলাই সনদের রূপরেখা বিএনপিই তৈরি করেছে, সংস্কারের উদ্যোগও বিএনপিই নিয়েছে। দেশের মানুষ সব বুঝে, তাই মিথ্যার রাজনীতি করে কেউ টিকতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশ পরিচালনা করতে চাই। কিন্তু সেই গণতন্ত্রের অর্থ এই নয় যে কেউ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে আর আমরা তা মেনে নেব। বাংলাদেশের জনগণ কখনো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে গ্রহণ করবে না।”
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “জামায়াত এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, নির্যাতন এবং মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির ইতিহাস জনগণ ভুলে যায়নি। তাই এই দেশের মানুষ কখনো জামায়াতকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায় না।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য। এখানে কোনো বিভাজনের রাজনীতি চলবে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষকে নিয়েই আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ঘোষণা দেন, আগামী দুই বছরের মধ্যেই ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচল শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সব খাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।”
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, “আমরা পূর্ণাঙ্গ টিম নিয়ে এসেছি এবং বিমানবন্দরের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছি। এটি দ্রুত চালুর বিষয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। যেহেতু এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ছিল, তাই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।”
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু বিমানবন্দর চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাই এটি বাস্তবায়ন হবেই। পরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে, এখন বাস্তব কাজ শুরু হবে। আশা করছি দুই বছরের মধ্যেই এখান থেকে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হান্নান হান্নু, দপ্তর সম্পাদক মো. মামুন অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মাহেবুল্লাহ আবু নূর ও এম এম মজিদুল ইসলামসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের রানওয়ে, টার্মিনাল এলাকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে ঠাকুরগাঁওবাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়।
তিনি আরও বলেন, “ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এজন্য আমরা দ্রুত কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছি, তবে জনগণকে কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই ঠাকুরগাঁওবাসী খুব দ্রুত বিমানে চড়ে সরাসরি ঢাকায় যাতায়াত করতে পারুক। এজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের যাচাই-বাছাই ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।