কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে ২০ থেকে ২৫টি হিন্দু পরিবারের চলাচলের রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ শিকদারের বিরুদ্ধে। এতে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্কুলে যাতায়াতেও বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) গণমাধ্যমের কাছে এ অভিযোগ করেন ভজন চন্দ্র শীল। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক বাঁশের খুঁটি পুঁতে লম্বা বাঁশ, দড়ি ও পেরেক ব্যবহার করে চলাচলের রাস্তাটি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে ওই এলাকার ২০ থেকে ২৫টি হিন্দু পরিবারের সদস্যরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন বলে জানান তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় যুগ আগে ইউসুফ শিকদারের মধ্যস্থতায় ঢাকা কোনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র রায়ের ছেলে স্বপন চন্দ্র রায়ের সঙ্গে ভজন চন্দ্র শীলের ছোট মেয়ে নুপুরের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক কলহের জেরে নুপুর প্রায় আট থেকে দশ বছর আগে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ভজন চন্দ্র শীলের অভিযোগ, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ইউসুফ শিকদার দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি ও অশালীন আচরণ করে আসছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২২ জুলাই কুমিল্লা আদালতে বিচারাধীন মামলার হাজিরার দিন বিবাদীপক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে নুপুরের পরিবারকে নিয়ে ইউসুফ শিকদারের আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন নুপুরের ভাই বিজয় চন্দ্র শীল। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই ঘটনার জের ধরেই ২৬ জুলাই ইউসুফ শিকদার নিজে উপস্থিত থেকে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেন।
এ ঘটনায় ২০ থেকে ২৫টি হিন্দু পরিবারের সদস্যরা কার্যত দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউসুফ শিকদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, আদালতে ভজন চন্দ্র শীলের ছেলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর বিষয়টি সীল বাড়ির লোকজনকে জানানো হয় এবং তাদের পরামর্শেই রাস্তাটি বন্ধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দাউদকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।