মোঃ শাহজাহান বাশার
বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের প্রায় ৬২ লাখ মানুষের উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা থেকে ১,০০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ ইয়াছিন।
এ লক্ষ্যে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন-এর কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও দ্রুত কার্যক্রম শুরুর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
ডিও লেটারে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শুধু কুমিল্লা জেলার নয়, বরং বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিয়ে আসছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন জেলার পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন।
চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রায় তিন হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের কুমিল্লা জেলায় প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। অথচ মাত্র ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। এতে হাসপাতালের ওপর ক্রমাগত বাড়ছে রোগীর চাপ।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, হাসপাতালটির বর্তমান শয্যা ব্যবহারের হার (বেড অকুপেন্সি রেট) প্রায় ২২০ দশমিক ৪১ শতাংশ, অর্থাৎ ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী প্রতিনিয়ত ভর্তি থাকছেন। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে কিংবা করিডোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখা যেমন কঠিন হয়ে পড়ছে, তেমনি রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিও বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ডিও লেটারে গত কয়েক বছরের রোগীর সংখ্যা তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৪ সালে বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার রোগী, যেখানে দৈনিক গড় রোগী ছিল প্রায় ৩ হাজার। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৮৮ হাজারে, দৈনিক গড় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন। আর ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৬২ হাজার রোগী, যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার রোগী হাসপাতালে সেবা গ্রহণ করছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী, নার্স, প্রশিক্ষণার্থী ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় এক হাজার জনবল কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু ধারণক্ষমতার চেয়ে ২২০ শতাংশেরও বেশি রোগী সার্বক্ষণিক ভর্তি থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালের পরিবেশ বজায় রাখা এবং রোগীদের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দ্রুত ৫০০ শয্যা থেকে ১,০০০ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর জরুরি ও সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ ইয়াছিন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি করা হলে রোগীর চাপ অনেকটাই কমবে, চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হবে এবং বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের লাখো মানুষ আরও সহজে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।