মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি দপ্তর ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার কিংবা আপত্তিকর মন্তব্য ও পোস্ট করা থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য, কটূক্তি ও অপপ্রচারমূলক পোস্ট করছেন কিংবা সেসব পোস্ট শেয়ার করছেন। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
অধিদপ্তর আরও উল্লেখ করে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯’ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। সরকারি চাকরিজীবীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য বিধি-বিধানের পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা শেয়ার করা সরকারি চাকরি আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এ ধরনের আচরণ অসদাচরণের আওতায় পড়ে।
এ প্রেক্ষিতে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট, কটূক্তি বা অপপ্রচারমূলক কার্যক্রমে জড়িত শিক্ষকদের দ্রুত শনাক্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। পাশাপাশি গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন আচরণ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।