কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল) জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবার নামে চরম অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাতের শিফটে কর্মরত ডাক্তার ও নার্সদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে প্রতিনিয়ত রোগীরা মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা এবং রহস্যজনক আচরণে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
গত রবিবার দিবাগত রাতে এক হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় নাইঘর এলাকার বাসিন্দা রুবেল হঠাৎ গুরুতর স্ট্রোক রোগে আক্রান্ত হলে স্বজনরা তাকে অতি দ্রুত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। কিন্তু হাসপাতালে আনার পর শুরু হয় চরম অবহেলা। দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট (দেড় ঘণ্টা) অতিবাহিত হয়ে গেলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীকে কোনো প্রকার প্রাথমিক চিকিৎসা বা ওষুধ দেননি। রোগীর অবস্থা ক্রমান্বয়ে আশঙ্কাজনক হতে থাকলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক কোনো প্রকার চিকিৎসা না দিয়েই রোগীকে সরাসরি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন। ডাক্তারের দায় এড়ানোর চেষ্টা: গুরুতর অসুস্থ রোগীকে কোনো ওষুধ বা প্রাথমিক সেবা না দিয়ে এভাবে দীর্ঘ সময় ফেলে রেখে রেফার করার কারণ জানতে চাইলে জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও হাসপাতালের চিত্র:
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হাসপাতালে রাতের বেলা জরুরি বিভাগে কোনো ডাক্তার-নার্স সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না। সরকারি এই হাসপাতালে রোগীরা সেবা পাওয়ার আশায় এসে উল্টো অবহেলার শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালের রেজিস্টার খাতার তথ্যানুযায়. (1000259292.jpg), প্রতিদিন অসংখ্য রোগী বহির্বিভাগে আসলেও জরুরি সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। হাসপাতালের প্রবেশদ্বার ও ভবনের সাইনবোর্ডে (1000259295.jpg, 1000259293.jpg) "৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল" লেখা থাকলেও সেবার ক্ষেত্রে তা যেন নামমাত্র প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও ব্রাহ্মণপাড়ার সাধারণ জনগণ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সেই সাথে অনতিবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলাকারী চিকিৎসক ও স্টাফদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
[ গোলাম কিবরিয়া স্টাফ রিপোর্টার ]