কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় স্বামীর সঙ্গে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (৩ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মাদারপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে মো. আশিক (৩১), কামারখোলা গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান তারেক (২৪), একই গ্রামের আলমাছ মিয়ার ছেলে মো. আরিফ (৩৪) এবং মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. ইসমাইল (৩৭) ভুক্তভোগী দম্পতির বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা সদরে। তারা রাত ৯টার দিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে চান্দিনার মাদারপুর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে রাত ১০টার দিকে কামারখোলা এলাকায় অটোরিকশার ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে তারা পায়ে হেঁটে এগোতে থাকেন।
এ সময় মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক এসে তাদের গতিরোধ করে। ভুক্তভোগীর স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তিনজন তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং পরে আরও দুজনকে ডেকে আনে। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক ওই নারীকে কাছের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। স্বামীকে আলাদা করে দূরে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি বুঝে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী নারী, যিনি এক সন্তানের জননী (২৭), অভিযোগ করেন—তাকে জোর করে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পাঁচজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুজন সরাসরি ধর্ষণে অংশ নেয় এবং অন্যরা সহযোগিতা করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অপর পলাতক আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।