কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাহিনীটি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি, অস্ত্র ব্যবসায়ী, ডাকাত, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী ও বিভিন্ন অপরাধচক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় এনে র্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কুমিল্লার বুড়িচং থানাধীন বুড়িচং বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি কক্ষে ভয়াবহ এই ঘটনা ঘটে। ভিকটিম এনামুল হক শিশির মাহি (২৯) ওই কক্ষে অন্যান্য তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের সঙ্গে বসবাস করতেন। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা তার হাত-পা বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এসময় ভিকটিমের আত্মচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান থেকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে কুমিল্লার বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ২৬, তারিখ ১৭ মে ২০২৬। মামলায় পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামীদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র্যাব। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৮ মে ২০২৬ তারিখ রাত ১১টা ২০ মিনিটে র্যাব-১১ সিপিসি-২ এবং র্যাব-৬ সিপিসি-১ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর থানার ভোমরা এলাকা থেকে প্রধান আসামী জহির ইসলাম ওরফে আপন জহির হিজড়া (৪৬) কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত জহির ইসলামের পিতার নাম মৃত জাফর আলী এবং মাতার নাম মাজেদা বেগম ওরফে মানেজা বেগম। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রামপাল এলাকায়। তিনি বুড়িচং বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন সরকারি টিনশেড আবাসনে বসবাস করতেন।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত এনামুল হক শিশির মাহি এবং অভিযুক্তরা সবাই তৃতীয় লিঙ্গের এবং দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। তাদের মধ্যে মাদক ব্যবসা ও মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে অবস্থান নেয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান আসামী প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মোঃ শাহরিয়া। বিশেষ প্রতিনিধি