মোঃ শাহজাহান বাশার
এইচএসসি-পরবর্তী সময়: জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি।
তার জীবনের গল্পটি কেবল একজন প্রবাসীর সাফল্যের গল্প নয়; বরং বিদেশে অর্জিত আয়ের একটি অংশ কীভাবে নিজ এলাকার শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যবহৃত হতে পারে, তার একটি দীর্ঘ মানবিক দৃষ্টান্ত।
মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর জন্ম ১৯৬৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল (কাইটলা) গ্রামে। বাবা আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী। ছোটবেলা থেকেই জীবনের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। শিক্ষাজীবন শেষ করে জীবিকার সন্ধানে দেশের বাইরে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
প্রথমে কাতারে যান। পরে আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। নিউইয়র্কে শুরু হয় তার দীর্ঘ কর্মজীবন। পেশা হিসেবে বেছে নেন ট্যাক্সি চালানো। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় দিনের পর দিন গাড়ি চালিয়ে আয় করেছেন; কিন্তু তার চিন্তার বড় একটি অংশ পড়ে থাকত গ্রামের বাড়ি, এলাকার মানুষ এবং শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
নিউইয়র্কের মতো ব্যয়বহুল শহরে দীর্ঘদিন জীবনযাপন করেও তার লক্ষ্য ছিল সঞ্চয় করা। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তাকে এমন একজন প্রবাসী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যিনি নিজের জীবনযাপনে সংযমী থেকে উপার্জনের একটি বড় অংশ দেশে পাঠাতেন এবং এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করতেন।
তার কাছে অর্থ ছিল শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার উপকরণ নয়—এটি ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির একটি মাধ্যম।
ট্যাক্সির স্টিয়ারিংয়ে বসে নিউইয়র্কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাত্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিজের এলাকার একটি শিশুও যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়—এই চিন্তাই তাকে দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজে উৎসাহিত করেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার প্রবাসজীবন ও দেশে প্রতিষ্ঠান গড়ার সময়কাল নিয়ে কিছুটা তারতম্য দেখা যায়। তবে ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগ থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্সি চালানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ শুরু করেন।
প্রবাসে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি নিজের এলাকার শিক্ষার অবস্থা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়া তাকে প্রতিষ্ঠান গড়ার দিকে নিয়ে যায়।
শিক্ষা নিয়ে তার কাজ শুধু কলেজ প্রতিষ্ঠায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসা, পাঠাগার, কিন্ডারগার্টেনসহ একাধিক শিক্ষা উদ্যোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
একটি পাঠাগার বা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি গ্রামের সামাজিক পরিবেশও বদলে দিতে পারে—এই ধারণা থেকেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তার কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে।
শিক্ষার সুযোগকে শুধু শহরকেন্দ্রিক না রেখে গ্রামের শিশু-কিশোরদের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই ছিল এসব উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তার উদ্যোগের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি হলো মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রতিষ্ঠা। প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে নিজের বাড়ির জমিতে কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তিনি।
প্রতিষ্ঠার পর ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন বছর কলেজটির শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়েও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তার মূল লক্ষ্য ছিল এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করা এবং উচ্চশিক্ষার পথে তাদের এগিয়ে দেওয়া।
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে কলেজটির শিক্ষার্থীসংখ্যা ও প্রতিষ্ঠানের পরিধি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীসংখ্যা ও কার্যক্রম পরিবর্তিত হওয়ায় এসব সংখ্যা প্রতিবেদনভেদে আলাদা হতে পারে।
শিক্ষার ক্ষেত্রে নারী ও মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে বনু-আফসার গার্লস’ হাইস্কুল এবং আবদুল মতিন খসরু মহিলা কলেজ-সহ নারীশিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের কথা প্রকাশিত হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের শিক্ষার পথ অনেক সময় নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতায় বাধাগ্রস্ত হয়। সে বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে মেয়েদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা তার কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা—বিভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের সময়ভেদে তার প্রতিষ্ঠিত বা সহযোগিতায় পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয় বা তারও বেশি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নির্ধারণে কোন সময়কাল ও কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান গণনায় ধরা হচ্ছে, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তবে সংখ্যার পার্থক্যের বাইরে একটি বিষয় স্পষ্ট—দীর্ঘ সময় ধরে তার কর্মকাণ্ডের প্রধান ক্ষেত্র ছিল শিক্ষা।
শুধু শিক্ষা নয়, স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনের কথাও তার উদ্যোগে গুরুত্ব পেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
কুমিল্লা ডায়াবেটিক হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট উদ্যোগে তার সহযোগিতার তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বলের মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এসব কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার কথাও তার কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। বৃত্তি, শিক্ষাসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
তার দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল—একজন শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ করে দিলে শুধু একটি পরিবার নয়, সমাজও একজন সম্ভাবনাময় মানুষকে হারায়।
মোশাররফ হোসেনের কর্মকাণ্ডের আরেকটি দিক হলো সামাজিক সহায়তা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ঘর নির্মাণে সহযোগিতা এবং স্থানীয় জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থ ব্যয়ের তথ্য পাওয়া যায়।
অর্থাৎ তার উদ্যোগকে শুধু ‘স্কুল-কলেজ নির্মাণ’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহায়তা—এই তিনটি ক্ষেত্রেই তার দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নাম: মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী ,১৯৬৪: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় জন্ম।
একজন অভিবাসী শ্রমজীবী মানুষের উপার্জন সাধারণত পরিবার, বাড়ি, জমি কিংবা ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় ব্যয় হয়। মোশাররফ হোসেনের কর্মকাণ্ডের আলোচিত দিক হলো—তার আয়ের একটি অংশ তিনি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগে ব্যবহার করেছেন।
এই বিনিয়োগের ফল কোনো ব্যাংক হিসাবের মুনাফায় মাপা যায় না। এর ফল পাওয়া যায় শ্রেণিকক্ষে বসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পরীক্ষার ফলাফল, শিক্ষিত হয়ে বেরিয়ে যাওয়া তরুণ-তরুণী এবং একটি এলাকায় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির মধ্য দিয়ে।
তার জীবনের গল্পের সবচেয়ে মানবিক দিক সম্ভবত এখানেই। বিদেশে গিয়ে একজন মানুষ নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি নিজের এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন।
একজন ট্যাক্সিচালকের উপার্জন থেকে একটি কলেজ, একটি স্কুল কিংবা একটি পাঠাগার তৈরি হওয়া শুধু অর্থ ব্যয়ের ঘটনা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সময়, পরিকল্পনা, পারিবারিক ত্যাগ এবং দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতা।
তার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় সামনে আসে—প্রবাসী আয় শুধু পরিবারের জীবনমান উন্নত করার মাধ্যম নয়; সঠিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতার সঙ্গে সেটি একটি জনপদের মানবসম্পদ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
নিজের নামে প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেও এসব উদ্যোগের প্রভাব ব্যক্তি মোশাররফের গণ্ডি পেরিয়ে একটি বৃহত্তর সামাজিক পরিসরে পৌঁছেছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অর্থ হলো শুধু একটি ভবন তৈরি করা নয়; বরং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, অভিভাবক এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে ঘিরে একটি নতুন সামাজিক পরিসর তৈরি হওয়া।
এ কারণেই তার কর্মকাণ্ডকে কেবল একজন প্রবাসীর ব্যক্তিগত দান হিসেবে না দেখে স্থানীয় পর্যায়ে মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবেও দেখা যায়।
মোশাররফ হোসেনের জীবনকাহিনির ভৌগোলিক বিস্তারও উল্লেখযোগ্য। একদিকে নিউইয়র্ক—বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত মহানগর; অন্যদিকে কুমিল্লার একটি গ্রাম, যেখানে শিক্ষার সুযোগ ও সামাজিক অবকাঠামো একসময় ছিল সীমিত।
এই দুই ভূগোলকে যুক্ত করেছে একটি মানুষের শ্রম।
নিউইয়র্কের রাস্তায় ট্যাক্সি চালিয়ে অর্জিত অর্থ যখন কুমিল্লার একটি শ্রেণিকক্ষ, পাঠাগার কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোয় ব্যবহৃত হয়, তখন প্রবাসজীবন আর জন্মভূমির সম্পর্কটি নতুন অর্থ পায়।
এটি অভিবাসনের প্রচলিত গল্পের বাইরে আরেকটি সম্ভাবনাও দেখায়—বিদেশে বসবাস করেও একজন মানুষ কীভাবে নিজের গ্রামের সঙ্গে একটি সক্রিয় সামাজিক সম্পর্ক ধরে রাখতে পারেন।
মোশাররফ হোসেনের কাহিনি বাংলাদেশের প্রবাসী সমাজের একটি বৃহত্তর বাস্তবতার সঙ্গেও যুক্ত। লাখ লাখ বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কিন্তু রেমিট্যান্সের বাইরে প্রবাসীদের সামাজিক বিনিয়োগও স্থানীয় উন্নয়নে প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, বৃত্তি, পাঠাগার ও সামাজিক অবকাঠামোতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ—এসব কাজ কোনো একটি গ্রামের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।
এই অর্থে মোশাররফ হোসেনের গল্প শুধু কুমিল্লার একটি গ্রামের গল্প নয়; এটি প্রবাসী শ্রম, স্থানীয় উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিনিয়োগের সম্পর্ক বোঝার একটি মানবিক কেস স্টাডি।
মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর জীবনের গল্পে বড় কোনো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নাম নেই, নেই বিশাল শিল্পসাম্রাজ্য। আছে একটি ট্যাক্সি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, প্রবাসজীবনের সংগ্রাম এবং জন্মভূমির প্রতি টান।
তার কর্মকাণ্ডের পরিধি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে তথ্যের কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে একটি অভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়—দীর্ঘদিন ধরে তিনি কুমিল্লার নিজ এলাকায় শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত থেকেছেন।
নিউইয়র্কের ট্যাক্সির স্টিয়ারিং থেকে কুমিল্লার শ্রেণিকক্ষ—এটি শুধু হাজারো মাইলের একটি ভৌগোলিক যাত্রা নয়। এটি শ্রমের অর্থকে শিক্ষায়, ব্যক্তিগত সঞ্চয়কে সামাজিক বিনিয়োগে এবং প্রবাসজীবনকে জন্মভূমির ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করার এক দীর্ঘ মানবিক যাত্রার গল্প।
একজন মানুষ বিদেশে গিয়ে জীবিকা অর্জন করেছিলেন। কিন্তু তার উপার্জনের একটি অংশ ফিরে এসেছে গ্রামের মানুষের ভবিষ্যৎ গড়তে। সেই ফিরে আসাটিই হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।