কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের সঙ্গে প্রতারণা করে সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তার কথিত প্রেমিক রাজুর বিরুদ্ধে। নিজেকে ধনী পরিবারের সন্তান ও একটি হোটেলের মালিকের ছেলে পরিচয় দিয়ে তাজমিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। এমনকি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কেও মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন রাজু। পরে তাজমিনের সঙ্গে কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থান করেন তারা। সোমবার (১২ অক্টোবর) এসব তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান। রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানান তিনি। পরে রাজুকে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, রাজু নিজের পরিচয় সম্পর্কে তাজমিনকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি নিজেকে একটি হোটেলের মালিকের ছেলে বলে পরিচয় দেন। তবে প্রকৃতপক্ষে তিনি একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। নিজের আর্থিক ও পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাজমিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও রাজু তাজমিনকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি নিজেকে স্নাতক পাস বলে পরিচয় দিলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি এসএসসি পাসও করেননি। এভাবে নিজের পরিচয় ও যোগ্যতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাজমিনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, রাজুর বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড়ছনখোলা এলাকায়। তিনি ওই এলাকার মনির আহমেদের ছেলে। এর আগে তিনি বান্দরবানের লামা এলাকায় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কক্সবাজারের একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে তাজমিন বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে রাজুর সঙ্গে কক্সবাজারের ‘মেগালিথ রিসোর্টে’ অবস্থান করেন। সেখানে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তাজমিনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা অবস্থায় রাজুর অন্য মেয়েদের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনের সঙ্গে রাজুর সম্পর্কের সূত্র ধরেই তারা কক্সবাজারে একসঙ্গে অবস্থান করেন। তবে রাজুর দেওয়া পরিচয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এর আগে গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তের অংশ হিসেবে রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে কক্সবাজারে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তাজমিনের সঙ্গে রাজুর সম্পর্ক, তার পরিচয় সম্পর্কে দেওয়া মিথ্যা তথ্য এবং কক্সবাজারের রিসোর্টে তাদের অবস্থানের বিষয়গুলো হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে সামনে এসেছে। তবে তাজমিন হত্যার সঙ্গে রাজুর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল জানা যায়নি। পুলিশের তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং তাজমিন কীভাবে হত্যার শিকার হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক: মোঃ শাহরিয়া সিকদার