লিবিয়ার বেনগাজি শহরে পরিচালিত একটি পূর্বপ্রস্তুতিমূলক নিরাপত্তা অভিযানে ইউরোপগামী অবৈধ অভিবাসন চক্রের একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে। অভিযানে একটি সমাবেশ ও সংগঠন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বাড়ি থেকে ২৬ জন বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
সংস্থার প্রধান মেজর জেনারেল সালাহ মাহমুদ আল-খাফিফির নির্দেশনায় তদন্ত জোরদার, তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অভিবাসনের উৎস বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে তদন্ত বিভাগ, তদন্ত ও গ্রেপ্তার কার্যালয় এই অভিযান পরিচালনা করে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, তদন্ত ও গ্রেপ্তার কার্যালয়ের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য আসে যে বেনগাজির আল-মাজুরি এলাকায় একটি বাড়ি বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি লিবিয়ার উপকূলীয় এলাকা ব্যবহার করে ইউরোপমুখী অবৈধ অভিবাসন কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি নেটওয়ার্কের অস্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে কাজ করছে।
তথ্য পাওয়ার পরপরই তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহকারী দল মাঠ পর্যায়ে নজরদারি শুরু করে। তারা সংশ্লিষ্ট বাড়ি এবং সেখানে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালায়। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর একটি সুপরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে তদন্ত সম্পন্ন করে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহের পর তদন্ত ও গ্রেপ্তার ব্যুরোর একটি বিশেষ দল নির্ধারিত স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানের শুরুতে ওই স্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২৬ জন নথিবিহীন বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করা হয়।
আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সবাই মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে ইউরোপে যাওয়ার অপেক্ষায় ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পাচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর লিবিয়ার উপকূল ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের।
লিবিয়ার অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বলছে, এই অভিযান অবৈধ অভিবাসন নেটওয়ার্কের কার্যক্রম উন্মোচন এবং তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই ব্যর্থ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার, মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং এসব নেটওয়ার্কের উৎস নির্মূলে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রমের প্রতিফলন।
সংস্থাটি আরও জানায়, মেজর জেনারেল সালাহ মাহমুদ আল-খাফিফির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় অবৈধ অভিবাসন এবং মানবপাচার সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এমন কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
মোঃ শাহরিয়া। বিশেষ প্রতিনিধি