মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। এতে তৈরি হয়েছে সরবরাহ অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে একাধিক জ্বালানিবাহী জাহাজ। সামনে আরও কয়েকটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
রোববার ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে ধারাবাহিকভাবে আমদানি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দুটি জাহাজ বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও তিনটি জাহাজ বন্দরে আসবে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এলপিজি নিয়ে ডিএল লিলি নামের একটি জাহাজ শনিবার ১১ এপ্রিল রাতে বন্দরে পৌঁছায়। একই সময়ে ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে ‘গ্যাস ক্যারেজ’ নামের আরেকটি জাহাজ বহির্নোঙরের চার্লি ও ব্রাভো পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এছাড়া সোমবার আরও একটি জাহাজ মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে আসার কথা রয়েছে। আগামী ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে দেশে পৌঁছাবে ‘মারান গ্যাস হাইড্রা’ নামের জাহাজ। পরবর্তী ধাপে ১৮ এপ্রিল এলএনজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে ‘লবিটো’ নামের আরেকটি জাহাজ।
সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাহাজগুলো থেকে জ্বালানি খালাস করা সম্ভব হলে দেশের চলমান গ্যাস সংকট অনেকটাই কমে আসবে। এতে শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যাবে। একই সঙ্গে আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতের গ্রাহকদের চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও নিয়মিত আমদানি অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সরকার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে।
মোঃ শাহরিয়া। বিশেষ প্রতিনিধি