দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বড় আকারে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এতে করে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাহাজ দুটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভিড়ে। পরবর্তীতে সেগুলো থেকে জ্বালানি খালাসের প্রস্তুতি শুরু হয়। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব তেল দেশের বিভিন্ন ডিপোতে পাঠানো হবে।
ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী ‘লুসিয়া সোলিস’ নামের একটি ট্যাংকার প্রায় ৩৪ হাজার ৯৯১ টন ডিজেল নিয়ে বিকেলে বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজটি বুধবার পতেঙ্গা এলাকার ডলফিন জেটিতে ভেড়ার কথা রয়েছে। জেটিতে ভেড়ার পর সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল খালাস কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে ডেনমার্কের পতাকাবাহী ‘টর্ম দামিনি’ নামের আরেকটি জাহাজ প্রায় ৩২ হাজার ৯৩৫ টন ডিজেল নিয়ে রাতে বহির্নোঙরে পৌঁছায়। বর্তমানে জাহাজটি থেকে লাইটারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে তেল খালাস করে তা সংরক্ষণ ও পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে।
জাহাজ দুটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি জাহাজ থেকে সম্পূর্ণ তেল খালাস করতে প্রায় দুই দিন সময় লাগতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খালাস কার্যক্রম শেষ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রাইড শিপিংয়ের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম জানান, একই দিনে সিঙ্গাপুর থেকে ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ নামে আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এই জ্বালানিও দ্রুত খালাস করে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এসব আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।