মোঃ শাহজাহান বাশার 

আইন অঙ্গনে বিশেষ অবদান, বিশেষ করে মাদক ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং নির্যাতনের শিকার শিশু ও নারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখায় বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন কুমিল্লার কৃতী সন্তান ও ঢাকা জজ কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুল হক। তাঁর পেশাগত নিষ্ঠা, আইনি লড়াই এবং সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মাননা স্মারক ও গুণীজন পদক প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। ‘চাঁদের কণা’ ও ‘মিনি খান সাংস্কৃতিক একাডেমি’র যৌথ উদ্যোগে গুণীজন সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘মাদক ও শিশু নির্যাতন বন্ধে আমাদের করণীয়’। এ বিষয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুল হক। আলোচনায় মাদক ও শিশু নির্যাতনের মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

মাদক ও শিশু নির্যাতন বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। এসব অপরাধ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শিশু নির্যাতন একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে মাদকের বিস্তার তরুণ প্রজন্ম, পারিবারিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এ পরিস্থিতিতে অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইন অঙ্গনে অ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুল হকের ভূমিকা এবং মাদক ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তাঁর পেশাগত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। তাঁর এই স্বীকৃতি আইন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরে অপরাধ প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুল হক বলেন, “যেকোনো কাজের স্বীকৃতি কাজের অনুপ্রেরণা বাড়িয়ে দেয়। মাদক ও শিশু নির্যাতন সমাজের দুটি বড় ব্যাধি। আইনি অঙ্গনে থেকে এই অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষায় আমার এই লড়াই আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”

আইন পেশা কেবল মামলা পরিচালনা কিংবা আদালতে আইনি যুক্তি উপস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রেও আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে নির্যাতনের শিকার শিশু ও নারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা, সচেতনতা এবং কার্যকর উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে মাদক ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক দায়িত্ববোধ জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাউদ্দৌলা চৌধুরী। কবিয়াল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মু. নজরুল ইসলাম তামিজী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। চাঁদের কণার সভাপতি ড. এ.টি.এম. মমতাজুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ মান্নান (এনডিসি), সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোঃ জাকির হোসেনসহ দেশবরেণ্য কবি, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুল হকের হাতে সম্মাননা স্মারক ও গুণীজন পদক তুলে দেওয়া হয়। আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাদক ও শিশু নির্যাতনের মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইন, সচেতনতা এবং সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।