কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কের ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানা এলাকায় দায়িত্ব পালনরত হাইওয়ে পুলিশের পেট্রোল টিমের ওপর হামলা এবং পুলিশের ডাবল কেবিন পিকআপ ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বুড়িচং থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মহাসড়কে উল্টোপথে ছোট যানবাহন চলাচলের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি থাকায় নিয়মিত অভিযান ও পেট্রোল ডিউটির অংশ হিসেবে গত ৯ জুন সকাল থেকে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কে উল্টো পথে চলাচলকারী কয়েকটি অবৈধ থ্রি হুইলার (ইজিবাইক ও অটোরিকশা) আটক করে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করে।
বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নিমসার আমবাজার এলাকায় উল্টো পথে এসে যানজট সৃষ্টিকারী একটি অটোট্রলির চালককে প্রসিকিউশনের জন্য নাম ও ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি তা দিতে ব্যর্থ হন। পরে অটোট্রলিটি আটক করা হয়।
এরপর কর্তব্যরত কনস্টেবল মো. ইউসুফ আলী অটোট্রলিটি নিজেই চালিয়ে নিমসার বাজারের ফুটওভার ব্রিজের নিচে নিয়ে যাওয়ার সময় আটককৃত চালক হঠাৎ গাড়ির সামনে এসে লাফ দিয়ে অটোট্রলিতে উঠে পড়েন এবং হ্যান্ডেল ধরে ডানদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেন। এতে অটোট্রলিটি উল্টে গিয়ে সামনের গ্লাস ভেঙে যায় এবং ভাঙা কাচের আঘাতে চালক সামান্য আহত হন।
এ ঘটনার পর অটোট্রলি চালক চিৎকার শুরু করলে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জন থ্রি হুইলার ও অটোচালকসহ দুষ্কৃতিকারীরা নিমসার বাজার এলাকায় জড়ো হয়। তারা সংঘবদ্ধভাবে হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় কর্তব্যরত কনস্টেবল মো. ইউসুফ আলী ও মো. রাব্বি ইসলাম আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের ডাবল কেবিন পিকআপে লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে।
ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং বুড়িচং থানা পুলিশের সমন্বয়ে অভিযানে নামা হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. ইউসুফ মিয়া, মো. হাসান, মো. রিফাত, মো. হাবিব, মো. মফিজ, মো. আক্তার হোসেন, মো. সিফাত, মো. রবিউল, আবু ইউসুফ ইকরাম, মো. জুয়েল, মো. সরোয়ার হোসেন, নুপুর শাহা, মো. সোহাগ মিয়া, মো. বিল্লাহ, মো. সোহেল মিয়া, মো. ইব্রাহিম খলিল, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. আজিজুল।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হাইওয়ে পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পদ বিনষ্টের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে।
মোঃ শাহরিয়া। বিশেষ প্রতিনিধি