মোঃ শাহজাহান বাশার
গবেষণা কার্যক্রমের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভূতত্ত্ব বিভাগে ১ কোটি টাকার একটি এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। বিভাগের প্রয়াত প্রাক্তন শিক্ষার্থী মীর ময়নুল হক এবং তাঁর এমএস গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক প্রাক্তন ইউনেস্কো অধ্যাপক ড. জন আলফ্রেড ট্যালেন্টের স্মৃতি রক্ষার্থে এই ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম এ লতিফ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘মীর ময়নুল হক অ্যান্ড জন ট্যালেন্ট মেমোরিয়াল এনডাউমেন্ট ফান্ড’ গঠনের লক্ষ্যে প্রয়াত মীর ময়নুল হকের ছোট ভাই ড. মীর মুবিনুল হক ১ কোটি টাকার একটি চেক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের হাতে তুলে দেন।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া, প্রয়াত মীর ময়নুল হকের সহোদর মীর মফিদুল হক, বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, ভূতত্ত্ব অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং দাতা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, এনডাউমেন্ট ফান্ডের মোট অর্থের ৩০ শতাংশ ব্যয় করে ভূতত্ত্ব বিভাগে ‘ময়নুল-ট্যালেন্ট গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ স্থাপন করা হবে। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ করে অর্জিত লভ্যাংশ থেকে বিভাগের গ্র্যাজুয়েট গবেষকদের পিএইচডি ও এমফিল গবেষণা, এমএস ফেলোশিপ, স্কলারশিপ এবং বিভিন্ন ফিল্ডওয়ার্ক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠনের জন্য দাতা পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই অনুদান ভূতত্ত্ব বিভাগের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ড. মীর মুবিনুল হকের এই মহৎ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতিতে অবদান রাখতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই এনডাউমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষকদের আর্থিক সহায়তা এবং আধুনিক গবেষণা পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা ভবিষ্যতে ভূতত্ত্ব বিষয়ে উচ্চতর গবেষণাকে আরও গতিশীল করবে।