কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মনগৈর এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় মো. আল আমিন (৩৭) নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত আল আমিন দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার মনগৈর জামে মসজিদের সামনে ঈদগাহ মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে মনগৈর গ্রামের মো. রাসেল, মো. মোয়াজ্জেম, মো. আবুল কালামসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আল আমিন উল্লেখ করেন, এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসায় অভিযুক্তরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। ঘটনার দিন তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজের একপর্যায়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। লাঠির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় ৮টি সেলাই দেন।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, হামলার সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আল আমিন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. রাসেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে তারাই আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। আমি তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই বলেই আমাকে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও আল আমিন আমার সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন। সর্বশেষ একটি বিষয় নিয়ে আমি মনগৈর জামে মসজিদের সভাপতি আলমগীর হোসেন মাওলানার কাছে বিচার প্রার্থনা করি। এর জের ধরে আল আমিন ও তার লোকজন আমার বাবা, চাচা এবং আমার বাড়িঘরে হামলা করে, আমাকে মারধর করেছেন। এখন ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

মো. রাসেল দাবি করেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।