কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে সরকারি নির্ধারিত টোলের বাইরে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার পক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবাদ হিসেবে অনেকেই সাপ্তাহিক কাঠবাজারে অংশ না নেওয়ায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) বাজারটি ছিল অস্বাভাবিকভাবে ফাঁকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকায় গৌরীপুর হাট-বাজারের ইজারা নেন তিতাস উপজেলার সোলাকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী আরিফ সরকার। ইজারার সঙ্গে ভ্যাট ও আয়কর যুক্ত হওয়ায় খরচ বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে কোথাও নির্ধারিত টোল তালিকা প্রকাশ না থাকায় ইজারাদারের লোকজন ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই খাজনা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে এ সপ্তাহে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন কাঠ ব্যবসায়ী বাজারে আসেননি। ফলে সাপ্তাহিক কাঠহাট প্রায় ক্রেতা-শূন্য হয়ে পড়ে।

বাতাকান্দি গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আগে যেখানে ১৫০ টাকার মতো খাজনা দিতাম, সেখানে গত সপ্তাহে আমাকে ২৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। ছোট ব্যবসা করে এত চাপ নেওয়া সম্ভব না।

একই ধরনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন গজারিয়া উপজেলার বৈসারচর ও বাসারচরের ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া ও সিপন মিয়া। তারা জানান, গত বছর যেখানে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খাজনা দিয়েছি, এবার তা বেড়ে ৯ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ভাড়া, শ্রমিক ও খাজনা মিলিয়ে ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। বিক্রি না হলেও এই খরচ বহন করতে হয়।

এদিকে বাজারে কম উপস্থিতির প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। ভ্যানচালক আবু মুছা বলেন, প্রতি রবিবার কাঠ বহনের জন্য এখানে আসি। আজ বাজার একদম ফাঁকা, আগের মতো কাজ নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইজারাদার আরিফ সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর বাজার তার স্বাভাবিক কার্যক্রম হারাতে পারে।