কুমিল্লার দাউদকান্দিতে যাত্রীবেশে প্রাইভেটকারে তুলে খোকন ফরাজী নামে এক ব্যক্তির হাত বেঁধে এবং চোখে কালো চশমা পরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার মোবাইল ফোন নিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২১ হাজার ৬০০ টাকা এবং নগদ ৫৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ৭৭ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
খোকন ফরাজীর দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মদনপুর এলাকা থেকে দাউদকান্দি আসার উদ্দেশ্যে একটি অজ্ঞাতনামা প্রাইভেটকারে ওঠেন। এ সময় আরও তিনজন ব্যক্তি যাত্রীবেশে ওই গাড়িতে ওঠেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
দাউদকান্দি বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও গাড়িটি দাউদকান্দির দিকে না গিয়ে চান্দিনার দিকে যেতে থাকে বলে অভিযোগ করেন খোকন ফরাজী। একপর্যায়ে চান্দিনা ও মাধাইয়া এলাকার মাঝামাঝি সড়কে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা তাকে জোরপূর্বক হাত বেঁধে এবং চোখে কালো চশমা পরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২১ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়া হয়। একই সময়ে তার কাছে থাকা নগদ ৫৬ হাজার টাকাও নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিকাশ থেকে টাকা নেওয়ার পর মোবাইল ফোনটি ফরম্যাট করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন খোকন ফরাজী। এতে ফোনে থাকা বিভিন্ন তথ্য ও যোগাযোগের ডাটা মুছে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার কথোপকথন হয়। তাদের কথাবার্তার ধরন থেকে বিভিন্ন জেলার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। তবে তাদের প্রকৃত পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি বলে জানান খোকন ফরাজী।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করে সহযোগিতা চেয়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে চান্দিনা থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান এবং লিখিত অভিযোগ করেন।
খোকন ফরাজী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা, ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি শনাক্ত এবং নিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ও টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।