কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম যোগদানের পর গত দুই মাসে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৮৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ।

থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দুই মাসে কুমিল্লার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, দাউদকান্দি সার্কেলের দিকনির্দেশনায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। দাউদকান্দি মডেল থানায় কর্মরত কর্মকর্তা ও ফোর্সের কঠোর পরিশ্রমের ফলে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে সর্বমোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৬৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭২৭ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ৫৭৫ বোতল ফেয়ারডি সিরাপ, ১ হাজার ২০১ বোতল স্কাফ সিরাপ এবং ৬ বোতল বোটকা উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া অভিযানে ২টি বিদেশি পিস্তল ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব উদ্ধার অভিযান মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান তৎপরতার অংশ বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

গ্রেফতারের পরিসংখ্যানেও গত দুই মাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়েছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, মাদক মামলায় ৫৮ জন, গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে ৯৪ জন, ডাকাত মামলায় ৫৬ জন, ছিনতাইকারী/চোর হিসেবে ২৮ জন এবং অন্যান্য মামলায় ৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ সময়ে সর্বমোট ২৮৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ জানায়, মাদক, অস্ত্র, ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেফতারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থানার কর্মকর্তা ও ফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, দাউদকান্দি মডেল থানার আওতাধীন এলাকায় মাদক ও অপরাধ নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।