কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পূর্ববিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বাড়ির চারপাশের গাছের ডাল কেটে ফেলে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন খুরশীদ আলম (৭০)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার জিংলাতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জিংলাতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে খুরশীদ আলম বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে মো. বাবুল মিয়া (৩২), মো. মনির হোসেন (২৮)সহ কয়েকজন তার বাড়ির সামনে গিয়ে গালিগালাজ ও হুমকি-ধমকি দেন। একপর্যায়ে তারা বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়ির আশপাশের গাছের ডালপালা কেটে ঘরের চারপাশে ফেলে রাখেন। এতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর থেকে বাইরে বের হতে না পেরে অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় বসতঘরের দরজা-জানালা, রান্নাঘর, বাথরুম ও বেড়ায় ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

এ সময় খুরশীদ আলমের স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তার স্ত্রীর গলায় থাকা আনুমানিক এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন খুরশীদ আলম।

অভিযোগকারী আরও জানান, ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখান। পাশাপাশি তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর, প্রাণনাশ এবং বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন খুরশীদ আলম।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাঁদের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো সব আমাদের টয়লেট এবং যে ঘরে বসবাস করে , ওই ঘর ঘরের জায়গাটিও আমাদের। আমার ভাসুর গরু পালনের জন্য সেখানে একটি খামার তৈরি করেছিলেন। গরু পালন করলে তো দেখাশোনার জন্য একজন লোকের প্রয়োজন হয়। তাই গরু দেখাশোনার জন্য সেখানে একটি ঘরও তৈরি করা হয়েছিল। যেহেতু তাঁর নিজের কোনো জায়গা নেই, সে কারণে ওই জায়গায় ঘরটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় তিন মাস আগেই তাঁকে ঘরটি ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছিল। কারণ, আমরা সেখানে বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করব। সে কারণে আমাদের টয়লেটও আমরা নিজেরাই ভেঙে ফেলেছি। এ বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিচার-সালিশ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাঁদের ডাকলে তাঁরা সালিশে আসেন না, এড়িয়ে যান।