মোঃ শাহজাহন বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ২ নম্বর বাকশিমুল ইউনিয়নে প্রকাশ্য সড়কে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গরু ব্যবসায়ী পরিবারের দাবি, সংঘবদ্ধ একদল ব্যক্তি ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার (তারিখ) সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে বাকশিমুল ইউনিয়নের কালিকাপুর এলাকায় আব্দুল মতিন খসরু কলেজের পূর্ব গেটসংলগ্ন প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হারিজ মিয়া ও তাঁর ছেলে মো. রনি জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে গরু কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন স্থান থেকে গরু বিক্রির টাকা সংগ্রহ করে ফেরার পথে একদল ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করে।

রনির ভাষ্য, ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তাঁর বুকে ঝোলানো ব্যাগে ৫ লাখ টাকা এবং পকেটে আরও ৩০ হাজার টাকা ছিল। অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে তাকে মারধর করে এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়।

রনি দাবি করেন, হামলাকারীরা আগে থেকেই তাদের গতিবিধি সম্পর্কে অবগত ছিল। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছে তারা আগে থেকেই জানত আমি এই পথে টাকা নিয়ে ফিরব। অস্ত্রের মুখে আমাকে মারধর করে ব্যাগ ও পকেটের সব টাকা নিয়ে যায়।”

ঘটনার সময় রনির সঙ্গে থাকা স্থানীয় যুবক তামিম জানান, ছয়টি মোটরসাইকেলে করে একদল ব্যক্তি এসে হামলা চালায়। তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা রনিকে রাস্তার একপাশে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং তাকেও নিয়ন্ত্রণে রেখে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে তিনি দাবি করেন।

রনি আরও দাবি করেন, তিনি হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যক্তির নাম দিদার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হারিজ মিয়া ও তাঁর ছেলে দিদারকে প্রধান আসামি করে বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগটি থানায় লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

এসআই জিয়া বলেন, "আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পক্ষের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে পূর্ববিরোধের বিষয়টিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হবে।"

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে উল্লিখিত সব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করা হচ্ছে না।

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যস্ত সড়কে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।