মোঃ শাহজাহান বাশার 
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওজন পার্কে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ‘পিস কনফারেন্স’-এ বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি এবং মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা, উগ্রবাদ, ঘৃণার রাজনীতি ও সহিংসতা বিশ্বশান্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এসব প্রবণতা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, ধর্মীয় নেতৃত্ব ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

গত ২৭ জুলাই (সোমবার) রাতে স্থানীয় মাইজভাণ্ডারী অনুসারীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্য, বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেন।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন আওলাদে রাসূল (ﷺ), সাজ্জাদানশীন-এ দরবারে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডার শরীফ এবং Sufi Unity for International Solidarity (SUIS)-এর প্রেসিডেন্ট হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ঘৃণা ও সহিংসতা নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধই টেকসই শান্তির ভিত্তি। মানবসভ্যতার ইতিহাসে সব নবী-রাসূল (আ.) মানুষকে ভালোবাসা, ন্যায়বিচার, দয়া, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু আজ কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠী ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে বিভাজন ও সহিংসতা উসকে দিচ্ছে, যা ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং মানবতার জন্য হুমকি।”

তিনি বলেন, “যেখানেই যুদ্ধ, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস, বর্ণবিদ্বেষ কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটুক না কেন, তার বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান নেওয়া প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব। স্থায়ী শান্তি কখনো শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং ন্যায়বিচার, সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং মানবিক সহযোগিতার মাধ্যমেই তা অর্জন সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, ধর্মকে বিভেদের নয়, মানবকল্যাণের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ লক্ষ্যে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে খলিফা মোহাম্মদ কোরবান আলী বলেন, “মাইজভাণ্ডারী দর্শনের মূল ভিত্তি ভালোবাসা, মানবসেবা ও সম্প্রীতি। সমাজে এই মূল্যবোধ যত বিস্তৃত হবে, উগ্রবাদ ও বিভাজনের পরিসর তত সংকুচিত হবে।”

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, ঘৃণার রাজনীতি ও সহিংসতার বিস্তার রোধে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, সামাজিক সম্প্রীতি, নৈতিক নেতৃত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা জোরদার করা জরুরি।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খলিফা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, আক্কাস মিয়া, সেতু মিয়া, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ রানা তালুকদার, সাইদুল আলম সুজন, মোহাম্মদ জালাল তালুকদার, মোহাম্মদ মানিক, মোহাম্মদ হিরুসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন কমিউনিটি নেতা ও মাইজভাণ্ডারী অনুসারীরা।

সম্মেলনের সমাপনী পর্বে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্থিতিশীলতা, মানবকল্যাণ এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।

আয়োজকদের ভাষ্য, সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতিগত বৈচিত্র্যের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গঠনের বার্তা তুলে ধরা।