মোঃ শাহজাহান বাশার
দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল শ্রমবাজার। বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই পক্ষই একমত হন।
“আমাদের শ্রমিক প্রয়োজন, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা। শ্রমিকদের শোষণ, দুর্ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট স্বার্থে তাদের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
বাংলাদেশ আসিয়ান (আসিয়ান)-এর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদার করতে আরসিইপি-তে যোগদানের আগ্রহও তুলে ধরে বাংলাদেশ।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে Tarique Rahman বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেটভিত্তিক গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
সফরের সফল সমাপ্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে Tarique Rahman মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anwar Ibrahim এবং তাঁর সহধর্মিনীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন আর কেবল শ্রমশক্তি রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি এক বহুমাত্রিক, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগনির্ভর নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।

আজ সোমবার মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী Putrajaya-এর পেরদানা পুত্রা ভবনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেন।

সকালেই পুত্রজায়ায় পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman এবং তাঁর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anwar Ibrahim ও তাঁর সহধর্মিনী। এ সময় মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করে।

সংবাদ সম্মেলনে Tarique Rahman তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই ঐতিহাসিক সফরগুলোই দুই দেশের বর্তমান সুদৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধা দূর করতে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন দুই নেতা।

শ্রম ও বাণিজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও উন্নত প্রযুক্তির মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়।

অবকাঠামো, জ্বালানি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং শিক্ষা খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান Tarique Rahman

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anwar Ibrahim বলেন,

দুই দেশই আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, শ্রমবাজার পুরোপুরি উন্মুক্ত করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও মধ্যস্বত্বভোগীমুক্ত করার বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত কর্মীদের বৈধকরণ এবং আটকে থাকা বাংলাদেশিদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিয়েও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।

অন্যদিকে, রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক অবস্থান থেকে বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন Anwar Ibrahim। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান Tarique Rahman

এই সফরকে কূটনৈতিক মহল দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে, যেখানে শ্রমবাজার, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য—সবকিছুই এক নতুন কৌশলগত কাঠামোর অধীনে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।