কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নে দীর্ঘ পাঁচ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া। তবে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া স্থানীয়ভাবে ‘মেরী আপা ফ্রেন্ডস ক্লাব’-এর সভাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া তিনি ভিটিকান্দি ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা মো. জহিরুল ইসলাম জহির হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন আব্দুল লতিফ। এ সময় পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সময় আব্দুল লতিফ বিদেশি অস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পুলিশি নিরাপত্তায় তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ছিলেন আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া।
স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বের সেই হত্যাকাণ্ডের জের ও প্রতিশোধের কারণেই সর্বশেষ এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।