কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়ন-এর উত্তর হরিপুর (মোল্লা বাড়ি) গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূ, তার সন্তান ও ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা শাশুড়িকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শামসুর নাহার গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শামসুর নাহারের স্বামী জিয়া আলাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িঘর সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ভুক্তভোগীর দাবি, তার স্বামীকে পুলিশে আটক করানোর পর বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগ নেয় প্রতিপক্ষ।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ মে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উম্মে কুলসুম পলি, মিতু, সামি ও ইব্রাহিমসহ কয়েকজন জোরপূর্বক বাড়ির দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা শামসুর নাহার ও তার সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ঘর ছাড়তে চাপ সৃষ্টি করে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা শাশুড়িকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সন্তান ও বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হন শামসুর নাহার। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, ঘটনার মূল কারণ পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ। তিনি জানান, মৃত মনিরুল হক মোল্লা মৃত্যুকালে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে যান। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি দাবি করেন, জিয়া আলাউদ্দিনের বড় বোন পারভিন বেগম ওরফে পারুল বেগম নিজের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে পরিবারের জন্য একটি দোতলা ভবন নির্মাণ করেন, যাতে বৃদ্ধা মা স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারেন।
মিজানুর রহমান মোল্লার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবন নির্মাণের আগেই দুই ভাইয়ের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে বাড়ির মুরব্বি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, মৃত সালাউদ্দিন নিচতলায় বসবাস করবেন এবং জিয়া আলাউদ্দিন তার মাকে নিয়ে দোতলায় থাকবেন। তবে পরবর্তীতে মৃত সালাউদ্দিনের স্ত্রী উম্মে কুলসুম পলি ও তার মেয়েরা মিলে জিয়া আলাউদ্দিনের স্ত্রী-সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তারা আইনের আশ্রয় নেন।
এ বিষয়ে গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।