গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার রাউতকোনা এলাকার একটি বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হলে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোক, আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক গৃহবধূ, তার তিন সন্তান এবং এক যুবক। স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। শুক্রবার রাতেও তাদের স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। কিন্তু শনিবার সকালে ঘর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা খুলতেই চোখে পড়ে বিভীষিকাময় দৃশ্য। ঘরের মেঝেজুড়ে রক্ত, আর পাশাপাশি পড়ে আছে পাঁচজনের নিথর দেহ।

ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের কর্তা ফোরকান মিয়া। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য অশান্তি চলছিল পরিবারটিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর এক আত্মীয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ফোরকান মিয়া। ওই কথোপকথনে তিনি অসংলগ্ন কিছু বক্তব্য দেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করেন। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও নৃশংস। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে একাধিক টিম কাজ করছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে একসঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। অনেকেই বলছেন, এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য তারা জীবনে কখনো দেখেননি।