মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
চীনের তৈরি যুদ্ধবিমান একসময় আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে পশ্চিমা প্রযুক্তির তুলনায় কম নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার পর সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে পাকিস্তানের ব্য
বহৃত চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমান ও পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনায় চীনা প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তব সাফল্য অস্ত্রবাজারে সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হিসেবে কাজ করে। কারণ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা পাওয়া প্রযুক্তিকে অনেক দেশ অধিক নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। আর সেই কারণেই চীনের যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে।
এশিয়া ভিত্তিক সাময়িকী দ্য ডিপলোম্যাট-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জে-১০ সিরিজের প্রস্তুতকারক চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের বিক্রি ও আয় গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বৃদ্ধি শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে চীনের প্রভাব বৃদ্ধিরও ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর কাছে তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারায় চীন এখন বড় প্রতিযোগী হয়ে উঠছে।
যদিও ভারত এখনো বিস্তারিতভাবে কোনো যুদ্ধবিমান ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি, তবুও পাকিস্তানের দাবি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশ্লেষণ চীনা প্রযুক্তিকে নতুন আলোচনায় নিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতাও বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের নজর কাড়ছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জাম আমদানির বড় অংশ এসেছে চীন থেকে। ফলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা এখন আরও গভীর হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়াও চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে সক্রিয় আগ্রহ দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, দেশটি কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে, যার বাজেট কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব রাজনীতির পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তির বাজারেও নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। আর সেই বাস্তবতায় চীন নিজেদেরকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।