দীর্ঘ ৬ বছরের অপেক্ষা ও নানা চেষ্টা-তদবিরের পর অবশেষে দাউদকান্দি পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সতানন্দী এলাকায় শুরু হয়েছিল বহু প্রতীক্ষিত ড্রেন নির্মাণ কাজ। এলাকাবাসীর আশা ছিল, এবার হয়তো শেষ হবে বছরের পর বছর ধরে চলা জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ। কিন্তু কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর একটি অংশে বাধার কারণে থেমে গেছে পুরো নির্মাণকাজ। এতে নতুন করে হতাশা নেমে এসেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সতানন্দী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জমে থাকে ময়লা পানি। এতে শুধু চলাচলেই সমস্যা হয় না, ভোগান্তিতে পড়তে হয় নারী, শিশু ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও। পানি জমে থাকার কারণে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর বর্তমান পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলামের আন্তরিক সহযোগিতায় ড্রেন নির্মাণ কাজের অনুমোদন আসে। স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর দেলোয়ার প্রধানের প্রচেষ্টায় পৌরসভার উদ্যোগে শুরু হয় নির্মাণকাজ। ঠিকাদারি দায়িত্ব পান পৌর ঠিকাদার কবির হোসেন।
ঠিকাদার কবির হোসেন জানান, ইতোমধ্যে কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে শেষ অংশে এসে বাচ্চু মিয়া নামের এক ব্যক্তির আপত্তির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ড্রেনের নির্ধারিত স্থানের মধ্যে তার বাড়ির একটি অংশ পড়ায় তিনি কাজ করতে বাধা দেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ না হলে আবারও জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়বে পুরো এলাকা।
স্থানীয় নারী পথচারী বাতাসি বেগম বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। ময়লা পানির কারণে হাঁটাচলা করা খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বের হতে ভয় লাগে। দ্রুত ড্রেনের কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষ অনেক স্বস্তি পাবে।
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর দেলোয়ার প্রধান বলেন, “দক্ষিণ সতানন্দী এলাকার মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট করেছে। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এখন একটি অংশের বাধার কারণে পুরো এলাকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাচ্চু মিয়া বলেন, আমি ড্রেন নির্মাণে বাধা দিতে চাই না। তবে যেই অংশে কাজ হবে, সেটি আমার বসতঘরের মধ্যে পড়েছে। হঠাৎ ঘর ভাঙলে পরিবার নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। আমি কিছুটা সময় চেয়েছি এবং প্রয়োজনে নিজ দায়িত্বে ওই অংশের কাজ করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছি।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হোক। তাদের আশা, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগে দ্রুত শেষ হবে ড্রেন নির্মাণ কাজ এবং দক্ষিণ সতানন্দীর মানুষ মুক্তি পাবে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ থেকে।