কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় শতবর্ষী বৃদ্ধ খোরশেদ ভূঁইয়াকে মারধর ও ঘরে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে ছেলে খলিলুর রহমানকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি উপজেলার ছোট লক্ষীপুর গ্রামে।
পরিবারের দাবি, জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে যাকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ, সেই বৃদ্ধ খোরশেদ ভূঁইয়া নিজেই বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, জমি-সম্পত্তি লিখে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে ছেলে মো. খলিলুর রহমান তার বাবা খোরশেদ ভূঁইয়াকে মারধর করে কয়েকদিন একটি কক্ষে আটকে রাখেন এমন অভিযোগ ওঠে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। তাদের দাবি, তিনদিন মসজিদে না দেখে খোঁজ নিতে গিয়ে তারা বৃদ্ধকে ঘরের ভেতরে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও জানান তারা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয় বলে জানা যায়।
তবে স্থানীয় অপর একটি সূত্র অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য জমি-সম্পত্তি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে।
অভিযুক্ত ছেলে মো. খলিলুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বাবা অসুস্থ ছিলেন এবং নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এদিকে বাবা খোরশেদ ভূঁইয়া নিজেও ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে বলেন, আমার ছেলে আমাকে মারেনি। আমাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে যা প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও মারধরের ঘটনাকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন।