কুমিল্লা নগরীতে দেড় ঘণ্টার স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে জনজীবনে মারাত্মক ভোগান্তি নেমে আসে।
মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজসহ নগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি জমে যায়। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
নগরের সালাউদ্দিন মোড়, জেলা স্কুল সড়ক, আদালত চত্বরসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে চলে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।
নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেন উপচে পানি সড়কে উঠে আসে। শিক্ষা বোর্ড এলাকায় নোংরা ও আবর্জনাযুক্ত পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে সেবা নিতে আসা মানুষজনকে কষ্ট সহ্য করতে হয়।
শিক্ষা বোর্ড এলাকায় আসা দেলোয়ার হোসেন বলেন, বোর্ডের সামনের পুরো অংশ পানিতে ডুবে গেছে। অনেকেই হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন। প্রতি বছরই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান চোখে পড়ে না।
নগরের ঠাকুরপাড়া, রেইসকোর্স, মুরাদপুর, মনোহরপুর, বিসিক এলাকা, রানীরবাজার, আদালতপাড়া, হাউজিং এস্টেট এবং কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একই চিত্র দেখা গেছে। নিচু এলাকার অনেক বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে, ফলে বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
বারোপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, মেয়ের স্কুল ছুটির পর তাকে আনতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে ড্রেন ও খালের পানি প্রবাহ ধীর হয়ে পড়ায় সড়কে পানি জমেছে। ইতিমধ্যে পানি অপসারণে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কাজ শুরু করেছে। যেসব স্থানে ময়লা ও আবর্জনার কারণে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, সেগুলো দ্রুত পরিষ্কার করা হচ্ছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শামসুল ইসলাম বলেন, বাইরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় পানি বোর্ড চত্বরে ঢুকে পড়ছে। সমস্যা সমাধানে দ্রুত ড্রেন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
নগরবাসীর দাবি, সাময়িক পানি অপসারণ নয়, টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে প্রতি বছর সামান্য বৃষ্টিতেই কুমিল্লা নগরী একই দুর্ভোগের মুখে পড়বে।
মোঃ শাহরিয়া। বিশেষ প্রতিনিধি