কুমিল্লা নগরীতে যুবদলের দুই পক্ষের চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় এই সংঘর্ষে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত দুই দিনে মোট আহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
‎শনিবার ২৫ এপ্রিল বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নগরীর থিরাপুকুর ও জিনার পুকুরপাড় এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন আহত হন। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলিবিদ্ধ দুইজনকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে গুরুতর আহতদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করে দেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এবং টহল জোরদার করে।
‎এর আগে বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত একই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হন। এ সময় দুর্বৃত্তরা দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় এবং অন্তত ১০টি দোকান ভাঙচুর করে। পাশাপাশি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রমজান মাসে নগরীর দিঘীরপাড় এলাকায় এক যুবককে ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সেই বিরোধের জের ধরে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটছে। কুমিল্লা মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম ছোটন বলেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।,, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
‎এ ঘটনায় এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মোঃ শাহরিয়া। বিশেষ প্রতিনিধি