কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় জ্বালানি তেলের অনিয়ম, অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয় ও অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। রোববার ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বেলা ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।
‎অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চন্দ্র রায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সজীব তালুকদার। এ সময় র‍্যাব সিপিসি ২ কুমিল্লার সিনিয়র এএসপি ও স্কোয়াড কমান্ডার মিঠুন কুমার কুণ্ডুর নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অভিযানে স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। অভিযানের সময় রাজাপাড়া উত্তর চৌমুহনী এলাকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত হোসেন এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. হোসেনকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রয় এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় প্রতিষ্ঠানটিতে মজুদ থাকা ৪৮ লিটার অকটেন জব্দ করা হয় এবং উপস্থিত ক্রেতাদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি জনকে সর্বোচ্চ দুই লিটার করে বিক্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
‎একই অভিযানে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মো. জসীম উদ্দীন ৩৮ পিতা মৃত শামছুল হক গ্রাম বল্লভপুর রাজাপাড়া কে গোপন স্থানে জ্বালানি তেল মজুদের অভিযোগ তদন্তে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ এর ২০ ২ ধারা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রশাসন জানায় অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ছাড়াই তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দাহ্য পেট্রোলিয়াম পণ্য যেমন পেট্রোল ডিজেল ও অকটেন অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রয় করে আসছিলেন।,,, এছাড়া অননুমোদিত পাত্রে এসব জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছিল যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত।
‎সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ কালোবাজারি ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মোঃ শাহরিয়া। বিশেষ প্রতিনিধি