সিঙ্গাপুর থেকে অস্ট্রেলিয়ার পার্থগামী একটি ফ্লাইটে পাশে বসে থাকা এক নারী যাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৫২ বছর বয়সী এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সুধীর কুমার চৌহান বলে নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার, ১৩ এপ্রিল। ফ্লাইটটি পরিচালনা করছিল স্কুট এয়ারলাইনস। অভিযোগ অনুযায়ী, যাত্রার সময় ওই ব্যক্তি পাশে বসে থাকা নারী যাত্রীর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী নারী কেবিন ক্রুদের জানান।

কেবিন ক্রুরা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তারা ওই নারী যাত্রীকে অন্য আসনে সরিয়ে নেয়। একই সঙ্গে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এরপর পুরো যাত্রাপথে কেবিন ক্রুরা অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর নজরদারি রাখে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানায়, বিমানটি পার্থ বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই পুলিশ বিমানে প্রবেশ করে এবং সুধীর কুমার চৌহানকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্ক স্থাপন এবং অশালীন আচরণের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

এএফপির ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেনডেন্ট পিটার ব্রিন্ডাল এক বিবৃতিতে বলেন, প্রত্যেক যাত্রীর নিরাপদে ভ্রমণের অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে বিমানের মতো ঘনিষ্ঠ পরিবেশে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি যাত্রীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা স্পর্শের ঘটনা ঘটলে দ্রুত কেবিন ক্রুকে জানাতে।

বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। আগামী শুক্রবার তার জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ জানায়, বিমান বা বিমানবন্দরে কোনো ধরনের অপরাধমূলক বা অশালীন আচরণের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হয়। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্কুট এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পার্থ পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীকে প্রয়োজনীয় মানসিক এবং আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী তার দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে।