বাংলা ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানাতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নববর্ষকে বরণ করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ।
‎দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ৯টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলীর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বৈশাখী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম, ছাত্রপরামর্শক এবং বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।শোভাযাত্রা শেষে শুরু হয় বৈশাখী আনন্দ আয়োজন। সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলা। এর মধ্যে ছেলেদের মোরগ লড়াই এবং মেয়েদের জন্য মিউজিক্যাল চেয়ার প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি করে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও প্রাণচঞ্চল। দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে লোকগান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য এবং নাটিকা পরিবেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। পরিবেশনাগুলোতে নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতা এবং সংস্কৃতির প্রতি তাদের গভীর অনুরাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
‎পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ উদ্যোগ নিয়ে স্থাপন করে পিঠাপুলির স্টল। এসব স্টলে পরিবেশিত হয় বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা পিঠা। পাটিসাপটা, চিতই, দুধচিটা ও মালপোয়ার মতো মুখরোচক খাবার দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে প্রস্তুত এসব খাবার মেলায় আগতদের মাঝে বিশেষ সাড়া ফেলে। অনুষ্ঠান সম্পর্কে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে এ উৎসব উদযাপন করে। স্বল্প সময়ে এমন সফল আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি অর্গানিক খাবারের স্টলকে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, এত সুন্দর আয়োজনের জন্য আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ। শিক্ষার্থীরা যেন অন্তত একটি দিন একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে, সেটিই প্রত্যাশা। এ দিনের উৎসবের আনন্দ সবার মুখে হাসি হয়ে থাকুক বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
‎দিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন পায় এক ভিন্নমাত্রা। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্মিলিত অংশগ্রহণে উৎসবটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও স্মরণীয়।
মোঃ শাহরিয়া। বিশেষ প্রতিনিধি